দুবাইয়ের যুবরাজ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের নির্দেশনায়, শহরের বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মঙ্গল উন্নত করার লক্ষ্যে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য কাঠামো নামক নতুন এই প্রকল্পের জন্য ১০৫ মিলিয়ন দিরহাম বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তা পরবর্তী পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত হবে। এই উদ্যোগটি দুবাই স্যোশ্যাল এজেন্ডা ৩৩-এর অংশ, যার লক্ষ্য হলো দুবাইকে বিশ্বে থাকার, কাজ করার এবং ঘুরে দেখার সেরা গন্তব্যস্থল হিসেবে গড়ে তোলা।
মানসিক স্বাস্থ্য কাঠামোর প্রেক্ষাপট এবং লক্ষ্য
মানসিক স্বাস্থ্য কাঠামোটি বড় শহরে দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পরিকল্পিত। এটি দশটি মূল উদ্যোগের ধারণা দেয় যা পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত হবে। মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক শনাক্তকরণ বৃদ্ধি করা, সেবা ও সহায়তার জোরদার করা এবং মানসিক মঙ্গলক্ষেত্রে গবেষণা প্রচার করা। এই কাঠামোটি সমাজের সকল অংশকে সহায়তা করার উদ্দেশ্য নিয়ে গড়া হয়েছে, যেখানে বয়স্কদের, শিশুদের, সক্ষম মানুষদের এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
উন্নয়ন এবং মূল উদ্যোগসমূহ
এই কাঠামোতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে মানসিক ব্যথার প্রাথমিক লক্ষণগুলি শনাক্তকরণের ওপর জোর দেওয়া, সেবা ও সহায়তার মানোন্নয়ন করা এবং গবেষণা প্রচার করা। এটি শিক্ষার পরিবেশের ওপরও মনোযোগ দেয়, ছাত্রদের মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষাকর্মী ও অভিভাবকদের সহায়তা করে। অগ্রাধিকারমূলক গোষ্ঠীগুলোর চাহিদা মূল্যায়নের জন্য গবেষণা চালানো হবে এবং মানসিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা করা হবে।
প্রভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি
‘মানসিক স্বাস্থ্য’ থেকে ‘মানসিক সম্পদ’ শব্দের পরিবর্তন মানসিক মঙ্গল বিষয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ইতিবাচক পদ্ধতি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সন্তুষ্টি এবং সুখ উন্নত করতে সাহায্য করবে বলে আশা হয়। এই কাঠামো দুবাই স্যোশ্যাল এজেন্ডা ৩৩-এর লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে, যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বে জীবনমান এবং দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে দুবাইকে শীর্ষ শহরগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা।
সর্বশেষে বলা যায়, মানসিক স্বাস্থ্য কাঠামোর উদ্যোগটি দুবাইয়ে মানসিক স্বাস্থ্য এবং মঙ্গল উন্নত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যযুক্ত উদ্যোগের সহায়তায়, এই প্রকল্পের সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এক ধরণের পরিবর্তন আনতে, যা শহরে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রকৃতপক্ষে নতুন দৃষ্টিতে উঠে আসবে, প্রতিটি বাসিন্দাকে আরও সুস্থ এবং সুখী জীবনের প্রত্যাশা করতে সাহায্য করবে।








